Monthly Archives: July 2015

কেন আপনি মধু খাবেন ?

প্রতিদিন এক চামচ মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, নানা রোগের উপসমসহ জীবনীশক্তি বাড়িয়ে দেবে। নিয়মিত মধু সেবন করলে নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়।

১. হাজারো গুণে ভরা মধুতে গুকোজ ও ফ্রুকটোজ আছে যা শরীরে শক্তি যোগায়। এর অন্যান্য উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

২. প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেলে ঠান্ডা লাগা, কফ, কাশি ইত্যাদি সমস্যা কমে যায়।

৩. মন ভালো করতে প্রতিদিন হালকা গরম পানির সাথে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খান। সঙ্গে একটু দারুচিনির গুঁড়াও ছিটিয়ে নিতে পারেন।

৪. প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে ওজন কমে যায় কিছুদিনের মধ্যেই। এছাড়াও এভাবে প্রতিদিন খেলে লিভার পরিষ্কার থাকে, শরীরের বিষাক্ত উপাদান গুলো বের হয়ে যায় এবং শরীরের মেদ গলে বের হয়ে যায়।

৫. মধুর সাথে দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে তা রক্তনালীর সমস্যা দূর করে এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

৬. মধু ও দারুচিনির মিশ্রণ নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমে এবং যারা ইতিমধ্যেই একবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন তাদের দ্বিতীয়বার অ্যাটাকের ঝুকি কমে যায়।

৭. হজমের সমস্যা থাকলে প্রতিদিন সকালে মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিবার ভারী খাবারের আগে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খান।

৮. যারা সারাক্ষন দূর্বলতায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেয়ে নিন এবং সারা দিন সবল থাকুন।

৯. সকালে ত্বকে মধু লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে মধুর বেশ কিছু উপাদান ত্বক শুষে নেয়। ফলে ত্বক মসৃণ ও সুন্দর হয়।

১০. ত্বকে নিয়মিত মধু ব্যবহার করলে ত্বকের দাগও চলে যায়।

‘ঘি’-এর অভাবনীয় স্বাস্থ্য উপকারিতা

পরিশেষে আধুনিক বিজ্ঞান ঘি খাওয়া শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তা প্রতিপাদন করতে পেরেছে। যা আমাদের পূর্বপুরুষ শতাব্দী আগে থেকে বলে আসছেন। আমরা সকলে জানি, অতিরিক্ত ঘি খাবার ফলে শরীরের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা হয়ে থাকে। কিন্তু এর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সকলে অবগত নই। আসুন এর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

. ওজন হ্রাস করে:
জলপাইয়ের তেল ও নারিকেলের তেলের মত ঘি’তেও সে সমস্ত স্বাস্থ্যকর পুষ্টি বিদ্যামান, যা আপনার শরীরের চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে এবং ওজন হ্রাস করে।

. শক্তি বৃদ্ধি করে:
ঘি’তে মধ্যম চেইন ফ্যাটি এসিড বিদ্যামান। যা, লিভার সরাসরি শোষণ করতে পারে এবং দ্রুত বার্ন করতে পারে। আমরা যে সকল কার্বযুক্ত খাবার গ্রহণ করি, তার মধ্যে এটি শক্তির একটি স্বাস্থ্যসম্মত উৎস।

. মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমায়:
ঘি’তে লিনলিয়েক এসিড সমৃদ্ধ, এটি এক প্রকার ফ্যাটি এসিড যা প্লাককে প্রতিরোধ করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং হার্টের বিভিন্ন রোগ দূর করে।

. কোলেস্টেরল কমায়:
ঘি’তে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বিদ্যামান। যা আমাদের কোলেস্টেরল কমিয়ে ফেলে এবং হার্টের সুরক্ষা প্রদান করে।

. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে:
ঘিয়ে রয়েছে বুট্রিক অ্যাসিড, একটি সংক্ষিপ্ত চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড যার বেশ কিছু সুবিধা আছে। অনেক সুবিধার মধ্যে, সবচেয়ে কার্যকরী সুবিধা হল, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আমাদের শরীর ফাইবারকে butyric অ্যাসিডে রূপান্তর করে। তাই, ঘি খাবার ফলে Butyric অ্যাসিড পরিপাক নালীর কাজে সাহায্য করে এবং এটি সুস্থ রাখে।

. ইমিউনিটি উন্নত করে:
Butyric অ্যাসিড শরীরের ইমিউন সিস্টেমের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। এটি শরীরের ক্ষতিকারক সেল ধ্বংস করতে পারে।

. প্রদাহ দূর করে:
প্রদাহ দূর করার এটি একটি প্রাকৃতিক উপায়। নিয়মিত ঘি খাদ্য তালিকায় রাখলে, তা শরীরের প্রদাহ দূর করে।

. ক্ষুধা কমায়:
হজম শক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি ক্ষুধা কমানোর ক্ষেত্রেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

. চোখের স্বাস্থ্য ভাল করে:
ঘি ভিটামিন ‘এ’ তে সমৃদ্ধ। যা আমাদের চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

১০. মানসিক বিষক্রিয়াগত মাথাব্যথা মুছে ফেলে:
গবেষণায় দেখা যায়, নেতিবাচক আবেগের একটি রাসায়নিক রচনা রয়েছে এবং তা হল এইসব রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে। ঘি একটি সুস্থ চর্বি যা এই আবেগ পোষণ করে না। এর পরিবর্তে এটি তাদের খুঁজে ফ্লাশ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।–সূত্র: ইন্ডিয়া টাইম্‌স।